কাকতাড়ুয়া উপন্যাস সেলিনা হোসেন(জ্ঞানমূলক, অনুধাবন, MCQ)

5/5(1 vote)

কাকতাড়ুয়া উপন্যাস সেলিনা হোসেন

একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধ আমাদের জাতীয় জীবনের সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ ও গৌরবান্বিত ঘটনা। পাকিস্তানের বৈষম্য, বঞ্চনা, নিপীড়ন, অত্যাচার আর হানাদার পাকিস্তানি মিলিটারির নৃশংস হত্যা ও ধ্বংসযজ্ঞ থেকে চিরতরে বাঁচার জন্য সংঘটিত হয়েছিল মুক্তিযুদ্ধ। ‘কাকতাড়ুয়া’ উপন্যাসটিতে একাত্তরের পটভূমিকায় বাংলার গ্রামীণ জীবনের যে চিত্র অঙ্কিত হয়েছে তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ চিত্র আমাদের জাতীয় জীবনের প্রতিচ্ছবি।

এ জীবনেতিহাস পাঠে হানাদার বাহিনীর নৃশংস গণহত্যা ও জ্বালাও পোড়াও নীতি, তাদের দোসর এদেশীয় বেইমান, বিশ্বাসঘাতকদের পরিচয় পাবে, তেমনি ক্ষুধা জর্জরিত, মহামারীক্লিষ্ট মানুষের পরিচয় লাভ করবে। নিজের নিয়মে বেড়ে ওঠা এক সাহসী কিশোর বুধার মাধ্যমে এখানে মুক্তিযুদ্ধের ভয়াবহতা তুলে ধরা হয়েছে ৷ এ চরিত্রের মাধ্যমে তারা পাবে বীর বাঙালির শৌর্য-বীর্যের পরিচয়। যা কোমলমতি ছাত্রছাত্রীদের জাতীয় চেতনা, দেশপ্রেম ও মানব চরিত্র গঠনে সহায়ক হবে। আর এর মধ্যেই এ উপন্যাসটি পাঠের সার্থকতা দেদীপ্যমান।

কাকতাড়ুয়া উপন্যাস সেলিনা হোসেন(জ্ঞানমূলক, অনুধাবন, MCQ)

কাকতাড়ুয়া উপন্যাসের জ্ঞানমূলক প্রশ্ন উত্তর(কমন উপযোগী)

  1. কে বুধাকে মানিকরতন বলে ডাকত?

    উত্তরঃ হরিকাকু বুধাকে মানিক রতন বলে ডাকত ৷

  2. শান্তি কমিটির চেয়ারম্যান কে?

    উত্তরঃ শান্তি কমিটির চেয়ারম্যান ছিল আহাদ মুন্সি ৷

  3. মুক্তিবাহিনীর কমান্ডার কে?

    উত্তরঃ মুক্তিবাহিনীর কমান্ডার ছিলেন শাহাবুদ্দিন ৷

  4. কার নির্দেশনায় বুধা মিলিটারি ক্যাম্পে মাইন পুঁতে এসেছিল?

    উত্তরঃ শাহাবুদ্দিনের নির্দেশে বুধা মিলিটারি ক্যাম্পে মাইন পুঁতে এসেছিল।

  5. গায়ের লোকেরা বুধাকে কি নামে ডাকত?

    উত্তরঃ গায়ের লোকেরা বুধাকে কাকতাড়ুয়া নামে ডাকত ৷

  6. চাচির মুখে কোন শব্দটি শুনে বুধা হোঁচট খায়?

    উত্তরঃ চাচির মুখে মুক্তি শব্দটি শুনে বুধা হোঁচট খায় ৷

  7. বুধাকে কে এক পাশে টেনে ফিসফিসিয়ে বলে, আল্লাহ মাফ করুক।’?

    উত্তরঃ বুধাকে ফজু মিয়া এক পাশে টেনে ফিসফিসিয়ে বলে, ‘আল্লাহ মাফ করুক।’

  8. ‘কাকতাড়ুয়া’ উপন্যাসে ‘একটা ভিতুর ডিম’ কে?

    উত্তরঃ ‘কাকতাড়ুয়া’ উপন্যাসে বুধার মতে একটা ভিতুর ডিম হচ্ছে- রানি।

  9. বুধাকে ‘কোথায় যাচ্ছিস’ জিজ্ঞেস করা হলে সে কী উত্তর দেয়?

    উত্তরঃ বুধাকে কোথায় যাচ্ছিস জিজ্ঞেস করা হলে সে উত্তর দেয় যে সে সোনার ঘরে যাচ্ছে।

  10. বুধার কয় ভাইবোন কলেরায় মারা যায়?

    উত্তরঃ বুধার চার ভাই-বোন কলেরায় মারা যায়।

  11. বুধা মগজের ভিতরে কী শুনতে পায়?

    উত্তরঃ বুধা মগজের ভেতরে শুনতে পায় শকুনের পাখা ঝাপটানি ৷

  12. বুধাকে ‘ছন্নছাড়া’ ডাকে কে?

    উত্তরঃ বুধাকে ‘ছন্নছাড়া’ ডাকে নোলক বুয়া।

  13. বুধা তার চাচির বাড়িতে গেলে কার চোখ ছলছল করত?

    উত্তরঃ বুধা তার চাচির বাড়িতে গেলে কুন্তির চোখ ছলছল করত।

  14. মিলিটারি কীভাবে গাঁয়ে প্রবেশ করে?

    উত্তরঃ মিলিটারি গুলি ছুড়তে ছুড়তে গ্রামে প্রবেশ করে।

  15. কে বুধাকে মানিকরতন ডাকে?

    উত্তরঃ বুধাকে ‘মানিকরতন’ বলে ডাকে হরিকাকু।

  16. বুধা কাকে স্যালুট করে?

    উত্তরঃ বুধা মুক্তিযোদ্ধা শাহাবুদ্দিনকে স্যালুট করে।

বাকি ৫০+ পরিক্ষায় আসা গুরুত্বপূর্ণ কাকতাড়ুয়া উপন্যাসের জ্ঞানমূলক প্রশ্ন উত্তর পেতে নিচের আরও পড়ুন বাটনে ক্লিক করুণঃ—

কাকতাড়ুয়া উপন্যাস MCQ প্রশ্ন উত্তর

কাকতাড়ুয়া উপন্যাসের বহুনির্বাচনি প্রশ্ন উত্তর(পরিক্ষায় আসা এবং খুব কমন উপযোগী)

০১. কাকতাড়ুয়া উপন্যাসের দ্রোহী চরিত্র কোনটি?

(ক) হরিকাকু
(খ) মতিউর
(গ) জয়নাল চাচা
(ঘ) সাহাবুদ্দিন

উত্তরঃ (ঘ) সাহাবুদ্দিন

০২. কাকতাড়ুয়া উপন্যাসের কেন্দ্রীয় চরিত্র কোনটি?

(ক) বুধা
(খ) আহাদ মুন্সি
(গ) শাহাবুদ্দিন
(ঘ) মতিউর

উত্তরঃ (ক) বুধা

০৩. কাকতাড়ুয়া উপন্যাসে কোন বিষয়টি বিশেষ ব্যঞ্জনাময় হয়ে উঠেছে?

(ক) পাক বাহিনীর নিপীড়ন
(খ) রাজাকারদের দৌরাত্ম্য
(গ) বুধার দেশপ্রেম
(ঘ) গেরিলা আক্রমণ

উত্তরঃ (গ) বুধার দেশপ্রেম

০৪. শান্তি কমিটির চেয়ারম্যান কে ছিল?

(ক) হাশেম মিয়া
(খ) মতিউর
(গ) আহাদ মুন্সি
(ঘ) হরিবাবু

উত্তরঃ (গ) আহাদ মুন্সি

০৫. কাকতাড়ুয়া উপন্যাসে ছবি আকার মানুষ কে?

(ক) বুধা
(খ) আলি
(গ) মিঠু
(ঘ) শাহাবুদ্দিন

উত্তরঃ (ঘ) শাহাবুদ্দিন

বাকি MCQ গুলো পড়তে নিচের Read More বাটনে ক্লিক করুণ ৷ কমন উপযোগী ৫০+ কাকতাড়ুয়া উপন্যাসের বহুনির্বাচনি প্রশ্ন উত্তর ৷ আর কাকতাড়ুয়া উপন্যাসের সকল এমসিকিউ পড়তে এখানে ক্লিক করুন ৷

কাকতাড়ুয়া উপন্যাসের অনুধাবন প্রশ্ন ও উত্তর

০১. আলো আধার বুধার কাছে সমান কেন?

উত্তরঃ বুধার জীবনাচরণ ও চলাফেরার কোনো সময়-অসময় নেই বলে তার কাছে আলো-আঁধার সবই সমান। বাবা-মা, ভাই-বোনদের হারিয়ে বুধা এ পৃথিবীতে বড় একা। সে ছন্নছাড়া, উদ্দেশ্যহীন জীবনযাপন করে। ঘুরতে ঘুরতে ও কোথায় যায় হিসাব রাখে না। ওর কাছে উত্তর-দক্ষিণ, পূর্ব-পশ্চিম সব সমান। মনে করে যেদিক দু চোখ যায় সেদিকেই ওর জন্য রাস্তা খোলা। হাটে মাঠে ঘুরে বেড়ায়। খেয়ে না-খেয়ে দিন কাটায়। রাত পোহালেই দিনের আলো, সূর্য ডুবলেই আঁধার ৷ এজন্য বুধার কালে আলো আঁধার সবই সমান ৷

০২. ভয় ওকে কাবু করে না কেন?

উত্তরঃ ছোটবেলায় বুধাকে কেউ ভূতের গল্প শোনায়নি, জুজুর ভয়ও দেখায়নি, এ কারণে ভয় ওকে কাবু করে না। বাবা-মা ও ডাই-বোনদের হারিয়ে কষ্ট-যন্ত্রণা নিয়ে বুধা একা একা বেড়ে উঠেছে। একা থাকার কারণে কেউ ওকে ভূতের গল্পও জুজুর ভয়ও দেখায়নি। তাই ও ভয়শূন্য হয়ে নিজের মতোই বড় হয়েছে। ভয়ের সঙ্গে ওর দেখা হয় না। ভয় আড়ালেই থেকে যায়। তাইও চারদিকে খোলা চোখে তাকাতে পারে। কোনো ভয়ই ওর চোখ বন্ধ করতে পারে না। এ জন্যই ভয় ওকে কাবু করে না।

০৩. পাকিস্তানি সেনারা ক্যাম্পে বাঙ্কার বানিয়েছিল কেন?

উত্তরঃ মুক্তিযোদ্ধাদের অতর্কিত আক্রমণ থেকে জীবন বাঁচানোর জন্য পাকিস্তানি সেনারা ক্যাম্পে বাঙ্কার বানিয়েছিল ৷ মুক্তিযুদ্ধের একপর্যায়ে গেরিলা বাহিনীর তৎপরতা ও সাহসী অভিযানে পাকিস্তানি বাহিনী পর্যুদস্ত হয়ে পড়ে। সারাক্ষণ তটস্প থাকে কখন মুক্তিবাহনীর গেরিলারা আক্রমণ করে। এজন্য তারা আত্মরক্ষার্থে ক্যাম্পে বাংকার তৈরি করে, যাতে ক্যাম্প আক্রান্ত হলে শেখানে জীবন বাঁচানো যায়।

০৪. ‘এখন ওর আর কোনো ভাবনা নেই। মরণেও ভয় নেই।’- বুধার এরূপ অনুভূতির কারণ কী?

উত্তরঃ স্বাধীনতার স্বপ্নে বুধা হারানো দিনগুলোর আনন্দ ফিরে পেয়েছে। তাই তার মনে কোনো ভাবনা বা মরণের ভয় নেই।

‘কাকতাড়ুয়া’ উপন্যাসে ‘কাকতাড়ুয়া’ হয়ে যে দাঁড়িয়ে থাকে তার নাম বুধা। বাবা-মা, ভাই-বোন সবাইকে হারিয়ে এবং দারিদ্র্যের কষাঘাতে বুধা প্রচন্ড দুঃখ-কষ্টে বড় হতে থাকে। পাকিস্তানি মিলিটারি স্কুলে ক্যাম্প স্থাপন করলে তাদের ভয়ে সবাই গ্রাম ছেড়ে পালিয়ে যায়। কিন্তু বুধা পালায় না। একপর্যায়ে সে মুক্তিযোদ্ধাদের সঙ্গে যোগ দিয়ে রেকি করে এবং মিলিটারি ক্যাম্প উড়িয়ে দেওয়ার কাজে যুক্ত হয়। এখন সে দেশের জন্য কাজ করছে। তাই মরণকেও সে ভয় পায় না।

০৫. বুধা নোলক বুয়ার সাথে গ্রাম ছেড়ে যেতে চায় না কেন?

উত্তরঃ বুধা ভিতু নয়, আর গ্রাম ছেড়ে সবাই গেলে গ্রাম একদম খালি হয়ে যাবে; এজন্য বুধা নোলক বুয়ার সাথে গ্রাম ছেড়ে যেতে চায় না। গ্রামে মিলিটারি এলে সবাই গ্রাম ছেড়ে পালাতে শুরু করে। নোলক বুয়া বুধাকে বলে তার সাথে যেতে। কারণ না গেলে মিলিটারি সবাইকে মেরে ফেলবে। কিন্তু বুধা তার সাথে যেতে চায় না। কারণ সবাই চলে গেলে গ্রামে কে থাকবে? তাছাড়া বুধা মোটেও ভিতু নয়। তার মতে, সবার উচিত গাঁয়ে থেকে লড়াই করা। এসব কারণে বুধা গ্রাম ছেড়ে যেতে চায় না।

০৬. গ্রামে গণকবর হওয়ার কারণ কী?

উত্তরঃ পাকিস্তানি মিলিটারি নির্বিচারে নৃশংসভাবে গ্রামবাসীকে হত্যা করায় গ্রামে গণকল হয়েছে ৷

পাকিস্তানি সেনারা যখন গ্রামে প্রথম আসে, তখন জিপগাড়িতে চড়ে এসেছিল। তারা গুলি চালাতে বাজারে এসে নামে। তারা বাজারে ঢুকে অসংখ্য মানুষ মেরে ফেলে। বয়স, ধর্ম কিছুই মানেনি তারা। এর পর তারা বাজারের সব দোকানে আগুন লাগিয়ে দেয়। এভাবে আরও অনেক মানুষ মারা যায়। এতে মৃত মানুষকে আলাদা করে কবর দেওয়ার উপায় ছিল না। তাই বিশাল গর্ত করে সবাইকে একত্রে কবরস্থ করা হয়। এভাবেই গ্রামে গণকবর হয়েছে।

০৭. ‘লোহার টুপি ওদের মগজ খেয়েছে।’- এ উক্তিতে কী বোঝানো হয়েছে?

উত্তরঃ ‘লোহার টুপি ওদের মগজ খেয়েছে’ বলতে লেখিকা পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর লোহার টুপি পরে বর্বর হত্যাকাণ্ড ও ধ্বংসযজ্ঞ সম্পর্কে কিশোর বুধার দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরেছেন। ১৯৭১ সালে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী এদেশের মানুষকে নির্বিচারে নির্মমভাবে হত্যা করেছিল। তাদের মাথায় থাকত লোহার টুপি। মানুষ হত্যা, নির্যাতন, জ্বালাও-পোড়াও এবং ধ্বংসযজ্ঞ চালানোর হীন চিন্তাই যেন তাদের মাথায় ছিল। কোনো মানবিক বোধ ছিল না। তাদের হীন চিন্তা ও বর্বরতার ক্ষেত্রে তাদের মাথা নষ্টের পেছনে ঐ লোহার টুপি অনেকাংশে প্রভাবক হিসেবে কাজ করেছে বলে বুধার মনে হয়েছে।

০৮. দুঃখকে বুধা হিংস্র শকুনের মতো বিবেচনা করে কেন?

উত্তরঃ দুঃখকে বুধা হিংস্র শকুন বলে বিবেচনা করে- কারণ দুঃখ শকুনের মতোই ধীরে মানুয়কে নিঃশেষ করে দেয় ৷ হঠাৎ মা-বাবা, ভাই-বোন সবাইকে হারিয়ে বুধা প্রচন্ড দুঃখ পায়। তার দুঃখ দিন দিন বেড়েই চলে। স্নেহ-মমতাহীন হয়ে বুধার স্বাভাবিক জীবন অস্বাভাবিক হয়ে ওঠে ৷ শকুন মৃত জন্তুকে যেমন ঠুকরে ঠুকরে নিঃশেষ করে দেয়, ঠিক তেমনি দুঃখও বুধার জীবনকে ধীরে ধীরে নষ্ট করে দিয়েছে। তাই বুধা দুঃখকে হিংস্র শকুনের সাথে তুলনা করেছে।

০৯. যে মানুষের দৃষ্টিতে ভাষা নেই, বুধার মতে সে মানুষ কেন মানুষ নয়?

উত্তরঃ মানুষের চোখে ভাষা থাকে, সেই ভাষায় মনের কথা প্রকাশিত হয়। তাই যে মানুষের দৃষ্টিতে ভাষা নেই বুধার মতে সে মানুষ নয়।

পাকিস্তানি সেনাদের চোখে চোখ পড়লে বুধা বুঝতে পারে ওদের দৃষ্টিতে ভাষা নেই। মানুষের মনের সঙ্গে দৃষ্টির যে গভীর যোগ সেটি ওদের ক্ষেত্রে ঘটেনি। তাদের চোখে প্রাণ নেই, সাহস নেই। নির্মম হত্যাকান্ডে মেতে উঠা এ রকম দৃষ্টিহীন মানুষ বলেছে। মানুষকে বুধার মানুষ বলেই মনে হয় না।

১০. বুধা শাহাবুদ্দিনকে স্যালুট করে কেন?

উত্তরঃ শাহাবুদ্দিন মুক্তিবাহিনীর কমান্ডার। তাই বুধা তাকে স্যালুট করল।

ঢাকার আর্ট কলেজের ছাত্র শাহাবুদ্দিন মুক্তিযুদ্ধে যোগ দিয়েছে। মুক্তিবাহিনীর কমান্ডার সে। বুধা জানে মুক্তিবাহিনীর কমান্ডারকে সম্মান প্রদর্শন করতে হয়। তাই সে শাহাবুদ্দিনকে স্যালুট করল।