গ্লুটেন জাতীয় খাবার নাকি গ্লুটেন ফ্রি খাবার—কোনটি খাবেন

5/5 - (1 vote)

গ্লুটেন জাতীয় খাবার নাকি গ্লুটেন ফ্রি খাবারঃ বাংলাদেশে প্রচুর পরিমাণে গম এবং গম থেকে তৈরি রুটি, পরোটা, পুরি ইত্যাদি সারা দেশে প্রতিদিন খাওয়া হয়।  কিন্তু আপনি কি জানেন গমসহ বার্লি, রাইয়ের মতো কিছু খাবারে রয়েছে একধরনের প্রোটিন(গ্লুটেন), যা কিছু কিছু রোগ যেমন সেলিয়াক রোগ, এলার্জির মতো সমস্যায় প্রতিক্রিয়া তৈরি করতে পারে ৷ তবেযে এই খাবারগুলো সবার জন্য ক্ষতিকর তা কিন্তু নয় ৷ তাই গ্লুটেন জাতীয় খাবার নাকি গ্লুটেন ফ্রি খাবার কোনটি আপনার জন্য প্রযোজ্য  এসম্পর্কে বিস্তারিত জানতে পুরো পোষ্টটি পড়ুন ৷

গ্লুটেন জাতীয় খাবার নাকি গ্লুটেন ফ্রি খাবার

গ্লুটেন কি?

গ্লুটেন হলো একট ধরনের প্রোটিন, যা নির্দিষ্ট কিছু খাবারে পাওয়া যায় ৷ গম হলো গ্লুটেনের প্রাকৃতিক এবং প্রধান উৎস ৷ তাছাড়া রয়েছে বার্লি, রাই, রুটি, পাস্তা ইত্যাদি ৷ গ্লুটেনের দুটি প্রধান প্রোটিন গ্রুপ হল গ্লিয়াডিন এবং গ্লুটেনিন ৷ এরা উভয় ময়দার স্থিতিস্থাপকতা এবং শক্তি সরবরাহ এবং ময়দা থেকে রুটি ফুলাতে অবদান রাখে ৷

গ্লুটেন দেহের জন্য উপকার নাকি ক্ষতি

গ্লুটেন হল প্রোটিনের মিশ্রণ, যা বিভিন্ন শস্যজাতীয় খাবারে পাওয়া যায় ৷ যেমন গম, বার্লি, রাই ইত্যাদি ৷ এ সকল খাবার দেহের ফাইবার ঘাটতি, বি ভিটামিন এবং খনিজগুলির মতো প্রয়োজনীয় পুষ্টির চাহিদা পূরণ করে ৷ যারা প্রতিদিন খেলা-ধুলা করেন এবং যাদের শক্তির চাহিদা বেশি, তারা টেকসই শক্তির জন্য গ্লুটেনযুক্ত কার্বোহাইড্রেট এসকল খাবারগুলো খেতে পারেন ৷

তবে গ্লুটেনযুক্ত খাবার কখনও কখনও স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন যে এই গ্লুটেন খাওয়া কিছু লোকের জন্য ক্ষতিকারক হতে পারে, বিশেষ করে যারা গমের অ্যালার্জি বা সিলিয়াক রোগে ভুগছেন।

কখন গ্লুটেন জাতীয় খাবার খাওয়া উচিত নয় অর্থাৎ গ্লুটেন ফ্রি খাবার খেতে পারেন

গ্লুটেন যুক্ত খাবার তখনই এড়িয়ে চলা উচিত, যখন একজন ব্যক্তির নিচের সমস্যাগুলো থাকে ৷

সেলিয়াক রোগঃ সিলিয়াক ডিজিজ হল একটি অটোইমিউন ডিসঅর্ডার, যা গ্লুটেন জাতীয় খাবার খাওয়ার ফলে ইমিউন প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হতে পারে এবং ছোট অন্ত্রের আস্তরনের ক্ষতি করে। গ্লুটেন জাতীয় খাবার খাওয়ার ফলে একজন সেলিয়াক রোগীর হজমের সমস্যা, ক্লান্তি, ওজন হ্রাস, ত্বকে ফুসকুড়ি এবং পুষ্টির ঘাটতির মতো সমস্যাগুলো দেখা দিতে পারে ৷

নন-সেলিয়াক গ্লুটেন সেনসিবিটি(এনসিজিএস): এই রোগীরা সিলিয়াক রোগের মতো উপসর্গ অনুভব করলেও অটোইমিউন প্রতিক্রিয়ার নেই ৷ গ্লুটেন যুক্ত খাবার খাওয়ার ফলে এই রোগীরা গ্যাস্ট্রোইনটেস্টাইনাল সমস্যা, মাথাব্যথা, ক্লান্তি এবং জয়েন্টে ব্যথা ইত্যাদি সমস্যা দেখা দিতে পারে ৷

অ্যালার্জি সমস্যাঃ যাদের গম, বার্লি, রাই ইত্যাদি খাবার খেলে অ্যালার্জি সমস্যা বেড়ে যায়, তারা এ জাতীয় খাবার এড়িয়ে চলতে পারেন ৷ এ জাতীয় খাবার অ্যালার্জির প্রতিক্রিয়া যেমন আমবাত, ফুলে যাওয়া, শ্বাস নিতে অসুবিধা এবং হজমের মতো সমস্যা বেড়ে যেতে পারে ৷

হজমের অস্বস্তিঃ এমন অনেকে আছেন যারা গ্লুটেন খাওয়ার পরে ফোলাভাব, গ্যাস বা অন্যান্য হজমের অস্বস্তি অনুভব করতে পারে। তাই এ জাতীয় খাবার না খাওয়াই ভালো ৷

সুতরাং এসকল সমস্যাগুলো যাদের রয়েছে তারা গ্লুটেন যুক্ত খাবার খাওয়া থেকে বিরত থাকতে পারেন ৷ তবে যাদের এই সমস্যাগুলোর কোনটিই নেই তারা একটি পরিমিত পরিমানে খেতে পারেন ৷ কেননা, গ্লুটেনযুক্ত খাবার খেলে ফাইবার, ভিটামিন বি, খনিজের মতো পুষ্টির চাহিদা পূরণ করে ৷

আরও পড়ুনঃ

  1. ফ্রিতে সূর্যের আলো থেকে ভিটামিন ডি সংগ্রহের সঠিক সময় জানুন ৷
  2. ভরপুরে ভিটামিন ডিযুক্ত খাবার রাখুন আপনার খাদ্য তালিকায় ৷

গ্লুটেন জাতীয় খাবার কি কি?

গ্লুটেন যুক্ত খাবারগুলো কি কি জেনে নিন ৷ আমরা যদি এই খাবারগুলো শনাক্ত করতে পারি, তাহলে এড়িয়ে চলতে পারবো ৷ তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যাদের সিলিয়াক ডিজিজ নেই এবং গ্লুটেন-মুক্ত ডায়েট অনুসরণ করেন এবং গ্লুটেনযুক্ত খাবার না খান, তারা পর্যাপ্ত পরিমাণে গুরুত্বপূর্ণ পুষ্টি যেমন আয়রন, ক্যালসিয়াম, কার্বোহাইড্রেট এবং ভিটামিন ডি পান না এবং এর ফলে হাড় সংক্রান্ত এবং অন্যান্য অনেক সমস্যায় দেখা দিতে পারে ।

  • গম(গ্লুটেনের একটি প্রধান উৎস)
  • বার্লি(গ্লুটেন সমৃদ্ধ খাদ্য)
  • রাই(গ্লুটেনযুক্ত শস্য)
  • ট্রিটিকেল(গম এবং রাইয়ের একটি সংকর জাত)
  • রুটি(গমের আটা দিয়ে তৈরি রুটি)
  • পাস্তা(গমের তৈরি ও আঠালো)
  • কুসকুস(গমের সুজি থেকে তৈরি)
  • ফারো(এক ধরনের গম, যা সালাদের সাথে খাওয়া হয়)
  • বিয়ার(বার্লি, গম বা রাই থেকে তৈরি)

গ্লুটেন ফ্রি খাবার এর তালিকা

এই খাবারগুলি গ্লুটেন-মুক্ত এবং যাদের গ্লুটেন-সম্পর্কিত সমস্যাগুলো রয়েছে তাদের জন্য এগুলো উপযুক্ত। যদি একজন ব্যক্তির সিলিয়াক রোগ থাকে তবে তাকে গ্লুটেন-মুক্ত খাদ্য অনুসরণ করার পরামর্শ দেওয়া হয়। এর মাধ্যমে শরীরে শক্তির মাত্রা বাড়ানো যায়। গ্লুটেন মুক্ত খাবার আপনার ক্লান্তি এবং অলসতা দূর করতে পারে। গ্লুটেন-মুক্ত খাদ্য খাওয়া জয়েন্টে ব্যথা, বিশেষত হাঁটু ব্যথা, পিঠে ব্যথা এবং কব্জি ব্যথা প্রতিরোধে সহায়তা করতে পারে।

  • কুইনোয়া(Quinoa): একটি প্রোটিন সমৃদ্ধ শস্য এবং গ্লুটেন ফ্রি খাবার ৷
  • ভাত(Rice): প্রাকৃতিকভাবে গ্লুটেন-মুক্ত খাবার ৷
  • ভুট্টা(Corn): গ্লুটেন মুক্ত একটি প্রধান শস্য দানা ৷
  • আলু(Potatoes): প্রক্রিয়াবিহীন আলু গ্লুটেন-মুক্ত খাবার ৷
  • মিষ্টি আলু(Sweet Potatoes): পুষ্টিগুণ সমৃদ্ধ এবং গ্লুটেন-মুক্ত খাবার ৷
  • মটরশুটি(Beans): প্রোটিন, ফাইবারের একটি ভাল উৎস এবং গ্লুটেন মুক্ত।
  • মসুর ডাল(Lentils) : প্রোটিন-সমৃদ্ধ এবং গ্লুটেন-মুক্ত ডাল।
  • ছোলা(Chickpeas): গ্লুটেন মুক্ত ছোলা ৷
  • বাদাম(Nuts): বেশিরভাগ বাদাম প্রাকৃতিকভাবে গ্লুটেন-মুক্ত এবং স্বাস্থ্যকর চর্বি রয়েছে ৷
  • বীজ(Seeds : চিয়া, শণ এবং কুমড়ার বীজ হল গ্লুটেন-ফ্রি বীজ ৷
  • ডিম(Egg): পুষ্টিকর এবং প্রাকৃতিকভাবে গ্লুটেন-মুক্ত প্রোটিনের ভালো উৎস।
  • মাছ(Fish): তাজা মাছ গ্লুটেন মুক্ত এবং ওমেগা -3 ফ্যাটি অ্যাসিড সমৃদ্ধ।
  • ফল(Fruits): সমস্ত তাজা ফল প্রাকৃতিকভাবে গ্লুটেন-মুক্ত এবং পুষ্টিকর।
  • শাকসবজি(Vegetables): বেশিরভাগ সবজি গ্লুটেন-মুক্ত এবং বিভিন্ন স্বাস্থ্য উপকারিতা রয়েছে ৷
  • দুগ্ধজাত খাবার (Dairy) : দুধ, পনির এবং সাধারণ দই আঠা-মুক্ত খাবার।

সবশেষে বলা যায়, একজন দক্ষ চিকিৎসকের মাধ্যমে পরিক্ষা-নীরিক্ষা করে দেখে নিবেন গ্লুটেন প্রতিত্রিয়া সৃষ্টিকারী রোগগুলো আছে কিনা ৷ যদি থাকে তাহলে খাবারগুলো এড়িয়ে চলুন আর না থাকলে একটি পরিমিত পরিমানে খেতে পারেন ৷ তবে সর্বদা একজন চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী চলতে হবে ৷